Lesson14 min to readbn

অদেখা গদ্য ও পদ্য — কী জিজ্ঞাসা করা হয় এবং কীভাবে উত্তর দিতে হয়

টেট-এর প্রথম ভাষা (বাংলা) অংশের প্রথম ১৫টি প্রশ্ন আসে দুটি অদেখা অনুচ্ছেদ থেকে — একটি গদ্য, একটি পদ্য। এই পাঠে দেখানো হয়েছে সেই প্রশ্নগুলি আসলে কী কী ধরনের, কোন ব্যাকরণ ও শব্দভাণ্ডারের অংশ বারবার ফিরে আসে, এবং সময়ের মধ্যে একটি অনুচ্ছেদ কীভাবে পড়তে হয়।

এই অংশটি কেন আলাদা

প্রথম ভাষা (বাংলা) বিভাগে ৩০টি প্রশ্ন। তার মধ্যে অর্ধেক — অর্থাৎ ১৫টি — আসে দুটি অদেখা অনুচ্ছেদ থেকে: একটি গদ্য (বা নাট্যাংশ), একটি পদ্য। বাকি ১৫টি ভাষা শিক্ষণবিদ্যার।

এই বিন্যাস প্রাথমিক টেট এবং CTET পত্র ১ ও পত্র ২ — তিনটিতেই এক। CTET-এও বাংলা প্রথম ভাষা হিসেবে বেছে নেওয়া যায়, এবং সেখানেও প্রশ্ন বাংলাতেই আসে। তাই এই পাঠটি তিনটি পরীক্ষার জন্যই।

এই অর্ধেকটির একটি বড় সুবিধা আছে, এবং একটি ফাঁদ আছে।

সুবিধা হল, এখানে মুখস্থ করার কিছু নেই। অনুচ্ছেদটি আপনি আগে দেখেননি, পরীক্ষক আশাও করেন না যে দেখেছেন। উত্তর অনুচ্ছেদের ভিতরেই আছে। যিনি মন দিয়ে পড়তে পারেন, তিনি এই ১৫টির প্রায় সবকটি পেতে পারেন — প্রস্তুতির পরিমাণ যাই হোক।

ফাঁদ হল, প্রশ্নগুলি কেবল "অনুচ্ছেদে কী লেখা আছে" জিজ্ঞাসা করে না। সেই অনুচ্ছেদ থেকেই একটি শব্দ তুলে নিয়ে তার সন্ধিবিচ্ছেদ, কারক, সমাস, বিপরীত শব্দ বা বাগধারার অর্থ জিজ্ঞাসা করা হয়। সেগুলি অনুচ্ছেদ পড়ে পাওয়া যায় না — আগে থেকে জানা থাকতে হয়। এই পাঠের বেশিরভাগ অংশ সেই জানা থাকার জন্য।

এই কারণেই এই পাঠটি বাংলায় লেখা। প্রশ্ন আসে বাংলা শব্দ, বাংলা বানান আর বাংলা ছন্দকে ঘিরে; ইংরেজিতে পড়ে সেগুলি আয়ত্তে আসে না।

১৫টি প্রশ্ন সাধারণত যেভাবে ভাগ হয়

পূর্ববর্তী প্রশ্নপত্রগুলি পড়ে যা দেখা যায় (এটি আমাদের পর্যবেক্ষণ, পর্ষদের ঘোষিত বিন্যাস নয়):

  • সরাসরি অনুধাবন — অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করে বলা আছে এমন কথা। সবচেয়ে সহজ, এবং সবচেয়ে কম সংখ্যক।
  • অনুমান ও মর্মার্থ — লেখকের মনোভাব, অনুচ্ছেদের মূল বক্তব্য, উপযুক্ত শিরোনাম। এখানেই মনোযোগী পাঠক আর দ্রুত পাঠকের তফাত ধরা পড়ে।
  • শব্দার্থ ও শব্দভাণ্ডার — অনুচ্ছেদের একটি শব্দের সমার্থক, বিপরীতার্থক, বা এক কথায় প্রকাশ।
  • ব্যাকরণ — অনুচ্ছেদ থেকে তোলা শব্দ বা পদের সন্ধি, সমাস, কারক, প্রত্যয়, উপসর্গ, পদ পরিবর্তন।
  • পদ্যের ক্ষেত্রে — উপরের সবকিছুর সঙ্গে ছন্দ ও অলংকার।

অর্থাৎ ১৫টির মধ্যে কমবেশি অর্ধেক নিছক পড়ার প্রশ্ন, বাকি অর্ধেক ব্যাকরণ ও শব্দজ্ঞানের প্রশ্ন যার উত্তর অনুচ্ছেদে নেই।

ব্যাকরণের যে অংশগুলি বারবার ফেরে

সন্ধি

দুটি ধ্বনির মিলন। বিচ্ছেদ করতে বলা হয়, বা মিলিত রূপ চাওয়া হয়।

  • স্বরসন্ধি — বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়; হিম + আলয় = হিমালয়; মহা + ঋষি = মহর্ষি
  • ব্যঞ্জনসন্ধি — সৎ + জন = সজ্জন; দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত; উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ
  • বিসর্গসন্ধি — মনঃ + রম = মনোরম; নিঃ + আকার = নিরাকার; দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা

নিয়মের তালিকা মুখস্থ করার চেয়ে উদাহরণ চেনা দ্রুততর। পরীক্ষায় নতুন শব্দ কম আসে; এই চেনা শব্দগুলিই ঘুরে আসে।

সমাস

দুই বা তার বেশি পদের মিলনে এক পদ। ব্যাসবাক্য লিখতে বলা হয়, বা সমাসের নাম চাওয়া হয়।

  • দ্বন্দ্ব — মাতাপিতা (মাতা ও পিতা); দোয়াতকলম (দোয়াত ও কলম)
  • কর্মধারয় — নীলাকাশ (নীল যে আকাশ); মহাজ্ঞান (মহৎ যে জ্ঞান)
  • তৎপুরুষ — গ্রন্থাগার (গ্রন্থের আগার); রাজপুত্র (রাজার পুত্র)
  • বহুব্রীহি — দশানন (দশ আনন যার); নীলকণ্ঠ (নীল কণ্ঠ যার)
  • অব্যয়ীভাব — প্রতিদিন (দিন দিন); উপকূল (কূলের সমীপে)

চেনার সহজ উপায়: ব্যাসবাক্যে যদি "ও" বসে — দ্বন্দ্ব। যদি "যে" বসে — কর্মধারয়। যদি "যার"/"যাতে" বসে এবং অর্থ তৃতীয় কোনো কিছুকে বোঝায় — বহুব্রীহি। দশানন মানে দশটি মাথা নয়, রাবণ; সেটিই বহুব্রীহির চিহ্ন।

কারক ও বিভক্তি

ক্রিয়ার সঙ্গে নামপদের সম্পর্ক। প্রতি বছর প্রায় নিশ্চিতভাবে আসে।

  • কর্তৃ — যে করে। ছেলেটি বই পড়ে। (ছেলেটি)
  • কর্ম — যাকে করা হয়। ছেলেটি বই পড়ে।
  • করণ — যার দ্বারা। কলম দিয়ে লেখো।
  • নিমিত্ত/সম্প্রদান — যাকে দেওয়া হয়। ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও।
  • অপাদান — যা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। গাছ থেকে পাতা পড়ে।
  • অধিকরণ — যেখানে বা যে সময়ে। ঘরে বসে আছে।

যে ভুলটি সবচেয়ে বেশি হয়: সম্বন্ধ পদকে কারক বলে ফেলা। রামের বই — এখানে "রামের" কারক নয়, সম্বন্ধ পদ, কারণ তার সঙ্গে ক্রিয়ার সরাসরি সম্পর্ক নেই। কারক চিনতে হলে ক্রিয়াটি খুঁজে বার করে তাকে "কে", "কী", "কোথা থেকে", "কীসের দ্বারা" জিজ্ঞাসা করুন।

প্রত্যয় ও উপসর্গ

  • উপসর্গ শব্দের আগে — প্র, পরা, অপ, সম, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি (প্র + হার = প্রহার; বি + জয় = বিজয়)
  • প্রত্যয় শব্দের পরে — কৃৎ প্রত্যয় ধাতুর পরে (কৃ + তব্য = কর্তব্য), তদ্ধিত প্রত্যয় নামপদের পরে (মধুর + তা = মধুরতা)

পদ পরিবর্তন ও বাচ্য

  • বিশেষ্য ↔ বিশেষণ — সুন্দর/সৌন্দর্য, মধুর/মাধুর্য, দরিদ্র/দারিদ্র্য
  • কর্তৃবাচ্য ↔ কর্মবাচ্য — সে বইটি পড়ল ↔ তার দ্বারা বইটি পঠিত হল

শব্দভাণ্ডারের অংশ

  • সমার্থক — সূর্য: রবি, ভানু, দিবাকর, অর্ক। জল: বারি, সলিল, পানি, নীর।
  • বিপরীতার্থক — আদান/প্রদান, ঋজু/বক্র, কৃশ/স্থূল, সরল/জটিল, উন্নত/অবনত
  • এক কথায় প্রকাশ — যা বলা হয়নি: অনুক্ত। যিনি বিদ্যা দান করেন: বিদ্যাদাতা। যা কষ্টে লাভ করা যায়: দুর্লভ।
  • বাগধারা — অর্থ জিজ্ঞাসা করা হয়, এবং আক্ষরিক অর্থ প্রায় সবসময়ই ভুল উত্তর:
    • অগস্ত্য যাত্রা — চিরদিনের জন্য প্রস্থান
    • গৌরচন্দ্রিকা — ভূমিকা
    • কূপমণ্ডূক — সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ
    • ব্যাঙের সর্দি — অসম্ভব ব্যাপার
    • তুলসী বনের বাঘ — ভণ্ড

পদ্যের অনুচ্ছেদে অতিরিক্ত যা আসে

ছন্দ

  • অক্ষরবৃত্ত — রুদ্ধ অক্ষর দুই মাত্রা, মুক্ত অক্ষর এক। পয়ার এই ছন্দেই। ধীর, গম্ভীর চাল।
  • মাত্রাবৃত্ত — প্রতিটি রুদ্ধ অক্ষর দুই মাত্রা, যেখানেই থাকুক। দোলা লাগে।
  • স্বরবৃত্ত — প্রতিটি অক্ষরই এক মাত্রা। ছড়ার ছন্দ, দ্রুত চাল।

চেনার উপায়: ছড়ার মতো দ্রুত পড়া যাচ্ছে — স্বরবৃত্ত। দুলে দুলে পড়া যাচ্ছে — মাত্রাবৃত্ত। টানা, গম্ভীর, ১৪ অক্ষরের পঙ্‌ক্তি — অক্ষরবৃত্ত।

অলংকার

  • অনুপ্রাস — একই ধ্বনির পুনরাবৃত্তি। কালো কেশে কুসুম
  • উপমা — তুলনা, "মতো"/"ন্যায়" থাকে। চাঁদের মতো মুখ
  • রূপক — তুলনা নয়, অভেদ। জীবন নদী
  • যমক — একই শব্দ ভিন্ন অর্থে
  • শ্লেষ — এক শব্দে একাধিক অর্থ

উপমা ও রূপকের তফাত সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করা হয়। "মতো" থাকলে উপমা; না থাকলে এবং দুটিকে এক বলে ধরে নিলে রূপক।

একটি অনুচ্ছেদ সময়ের মধ্যে যেভাবে পড়বেন

১. আগে প্রশ্নগুলিতে চোখ বুলিয়ে নিন, তারপর অনুচ্ছেদ। তাহলে পড়ার সময়েই জানা থাকে কী খুঁজছেন। ২. একবার পুরোটা পড়ুন, থেমে থেমে নয়। অচেনা শব্দে আটকাবেন না — পরের বাক্যেই প্রায়ই অর্থ পরিষ্কার হয়। ৩. সরাসরি অনুধাবনের প্রশ্নগুলি আগে সারুন। উত্তর অনুচ্ছেদে আছে, খুঁজে নিন। ৪. ব্যাকরণের প্রশ্নগুলি পরে। সেগুলির জন্য অনুচ্ছেদে ফেরার দরকার নেই, কেবল শব্দটি দরকার। ৫. মর্মার্থ ও শিরোনামের প্রশ্ন সবশেষে, যখন পুরো অনুচ্ছেদ মাথায় বসে গেছে।

পদ্যের অনুচ্ছেদ গদ্যের চেয়ে ছোট হয়, কিন্তু ধীরে পড়তে হয়। একটি পঙ্‌ক্তির অর্থ পরের পঙ্‌ক্তিতে গিয়ে সম্পূর্ণ হয় — তাই পঙ্‌ক্তি ধরে ধরে নয়, বাক্য ধরে পড়ুন।

যে ভুলগুলি সবচেয়ে বেশি নম্বর কাড়ে

  • সাধারণ জ্ঞান থেকে উত্তর দেওয়া। প্রশ্ন "অনুচ্ছেদ অনুযায়ী" — আপনি বিষয়টি সম্পর্কে যা জানেন তা নয়, লেখক যা বলেছেন তাই। বিকল্পটি সত্য হতে পারে অথচ ভুল উত্তর হতে পারে, কারণ অনুচ্ছেদে তা নেই।
  • অনুমানের প্রশ্নে তাড়াহুড়ো। এই প্রশ্নগুলিই ইচ্ছাকৃতভাবে মনোযোগী আর দ্রুত পাঠককে আলাদা করার জন্য লেখা হয়। দুটি বিকল্প প্রায় একইরকম দেখায়; তফাত একটি শব্দে।
  • বাগধারার আক্ষরিক অর্থ নেওয়া। "ব্যাঙের সর্দি" বিকল্পে ব্যাঙ বা সর্দি থাকলে সেটি প্রায় নিশ্চিতভাবে ফাঁদ।
  • সম্বন্ধ পদকে কারক বলা। উপরে বলা হয়েছে; এটি কারকের প্রশ্নে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল।
  • সময় না রাখা। ১৫টি প্রশ্নের জন্য ১৫ মিনিটের বেশি নয়। শিক্ষণবিদ্যার বাকি ১৫টি প্রশ্ন তুলনায় দ্রুত হয় — কিন্তু সেই সময় এখানে খরচ করে ফেললে চলবে না।

Where this comes from

পরিধি দুটি সিলেবাস অনুযায়ী, যেগুলির এই অংশটি কার্যত এক: WBBPE-র প্রাথমিক টেট (প্রথম ভাষা, বিভাগ ক: ভাষা অনুধাবন — দুটি অদেখা অনুচ্ছেদ, গদ্য ও পদ্য) এবং CBSE-র CTET পত্র ১ ও পত্র ২ (Language I: দুটি অদেখা অনুচ্ছেদ, একটি গদ্য বা নাট্যাংশ ও একটি কবিতা, তার উপর অনুধাবন, অনুমান, ব্যাকরণ ও ভাষাদক্ষতার প্রশ্ন)। CTET-এ বাংলা প্রথম ভাষা হিসেবে বেছে নেওয়া যায়। ব্যাকরণের শ্রেণিবিভাগ ও পরিভাষা প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ এবং পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বাংলা পাঠ্যবই অনুসরণ করে। উদাহরণগুলি এই পাঠের জন্য তৈরি করা, কোনো প্রশ্নপত্র থেকে নেওয়া নয়। কোন ধরনের প্রশ্ন বেশি আসে সে বিষয়ে যা বলা হয়েছে তা পর্ষদের ঘোষণা নয়, পূর্ববর্তী প্রশ্নপত্র পড়ে আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ।

Also on this subtopic

Other material filed under Reading of two unseen passages.